নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের পর ডেভিড ইমনের আরও তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘কালা মোবারক’ ওরফে ‘গলাকাটা মোবারককে’ গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি জানান।
গ্রেফতার মোবারক হোসেন (৩৭) ফটিকছড়ির কাঞ্চনগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যরা হলেন- মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কালা মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়ায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদ হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রটি কীভাবে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট