নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে অবস্থিত গাউছিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (গাউছিয়া হজ গ্রুপ)-এর বিরুদ্ধে প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে দীর্ঘ আড়াই মাসেও প্রতিশ্রুত পুরস্কার বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুরস্কার বিজয়ী একাধিকবার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গেলেও প্রতিবারই নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজয়ী।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল চিটাগাং খুলশী ক্লাব লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ওই র্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ঢাকা–কলকাতা–ঢাকা রুটের একটি বিমান টিকিট ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও প্রথম পুরস্কারের বিমান টিকিট বুঝে পাননি বিজয়ী ফারহান ফেরদৌস। বরং প্রতিবার যোগাযোগের পর নতুন তারিখ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পুরস্কার হাতে না দিয়েই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফারহান ফেরদৌস বলেন, “পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে গাউসিয়া হজ গ্রুপের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। তারা যেদিন আসতে বলেছেন, সেদিনই অফিসে গিয়েছি। কিন্তু এ পর্যন্ত চারবার অফিসে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছি। প্রতিবারই নতুন কোনো অজুহাত দেখিয়ে পরে আসতে বলা হয়েছে।”
তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মহিউদ্দিন কখনো ব্যক্তিগত ব্যস্ততা, কখনো অন্য প্রশাসনিক সমস্যার কথা বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করা হয় না। এমনকি মোবাইলে পাঠানো ক্ষুদেবার্তারও কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।
ফারহান আরও বলেন, “একজন বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার পাওয়াটা আমার অধিকার। কিন্তু বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খুবই বিব্রতকর।”
এ ঘটনায় তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান চিটাগাং খুলশী ক্লাব লিমিটেড-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি জানানো হলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ গাউছিয়া হজ গ্রুপের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগের বিষয়ে গাউছিয়া হজ গ্রুপের কর্ণধার মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লাবের সদস্যদের অনেকে মনে করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি জনসম্মুখে পুরস্কার ঘোষণা করে, তাহলে তা যথাসময়ে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সদস্যদের আস্থা ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রসঙ্গত: গাউছিয়া ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস চট্টগ্রামের মুরাদপুরে অবস্থিত একটি ট্রাভেল ও হজ এজেন্সি। প্রতিষ্ঠানটি এয়ার টিকিটিং, হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং (ট্যুরিস্ট ও মেডিকেল), এবং হজ ও ওমরাহ প্যাকেজ সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, এবার হজে সৌদি সরকারের বাধ্যতামূলক নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্নের প্রমাণ দিতে না পারায় গাউছিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসসহ ১২টি হজ এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের হজে কেবল নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমেই আদাহি বা কোরবানি সম্পন্ন করার অনুমতি ছিল। অন্যকোনো পদ্ধতিতে কোরবানি আদায়ের প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ করা হয়। সে অনুযায়ী ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬’-এ সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় কোরবানির খরচ ৭২০ রিয়াল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু এজেন্সি কমদামে কোরবানি করে দেওয়ার কথা বলে, সিস্টেমে হাজিদের ইফরাদ হজ পালনকারী দেখিয়ে হজ ভিসা করে কোরবানির টাকা নিজেরা গ্রহণ করে। ফলে হাজিদের কোরবানি নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য নেই।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট