সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে! মামলা-মোকদ্দমার হাজিরা দিতে এখন থেকে আর প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সদরে যেতে হবে না। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এই দুই উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থানীয় পর্যায়ে স্থানান্তরের সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১১ ধারার উপধারা (২এ) অনুযায়ী সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার আওতাধীন মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম এখন থেকে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিচালিত হবে।
এই বিষয়ে সাতকানিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি আইনজীবি হাফিজুল ইসলাম মানিক বলেন, আজকের এই খুশির দিনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জনপদের অবহেলিত সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মানুষের নয়নমণি মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা ড.আ ফ ম খালিদ স্যার ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ হেমায়েত উদদীন, প্রফেসর সাঈদ আহসান খালিদ ও যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সিরাজ স্যারের প্রতি আমরা সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি কৃতজ্ঞ।
হাফিজুল ইসলাম মানিক আরও বলেন, সাতকানিয়া চৌকিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হস্তান্তরের ফলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষকে ফৌজদারি আইনি সেবা নিতে আর চট্টগ্রাম শহরে যেতে হবে না। এতে বিচারপ্রার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। এছাড়া জামিনযোগ্য মামলার আসামি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরও আর যানবাহন জোগাড় করে শহরে টানাটানি করতে হবে না।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিজ এলাকায় স্থানান্তরের খবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় আইনজীবী ও জনপ্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় এলাকার বাসিন্দা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এই আদেশ আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দূরের আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে গিয়ে অনেক সময় কর্মজীবন ও সংসার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিজ এলাকায় হওয়ায় সাধারণম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিজ এলাকায় হওয়ায় সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। সরকারের এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট