- দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে নিয়ে আসে আনন্দের বার্তা। তবে এই আনন্দের মাঝে অসতর্ক খাদ্যাভ্যাস যেন আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। রমজানের পর হঠাৎ স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাওয়ার সময় শরীরের বিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। তাই সুস্থ থেকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো।
খাদ্যাভ্যাসে যা খেয়াল রাখবেন::
শুরুটা হোক হালকা: ঈদের দিন সকালেই খুব ভারী খাবার না খেয়ে দিনের শুরুটা পর্যাপ্ত পানি এবং হালকা ও কম মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে করুন।
পরিমিত আহার:: আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত থাকলেও চেষ্টা করুন একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেতে।
তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার (যেমন: বিরিয়ানি, কাবাব, হালিম) বদহজম ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার প্রধান কারণ। এগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।
আঁশযুক্ত খাবার ও প্রোটিন: খাবারের মেনুতে পর্যাপ্ত সালাদ, সবজি এবং প্রোটিন রাখুন যা হজমে সহায়তা করবে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা
যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের জন্য ঈদের আনন্দ হওয়া উচিত আরও বেশি সচেতন:
মিষ্টি নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত মিষ্টি ও সাদা ভাত রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
ওষুধের সমন্বয়: নির্ধারিত সময়ে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ নিশ্চিত করুন।
শর্করা পরীক্ষা: প্রয়োজনে বাড়িতেই গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
ক্লান্তি ও গরম মোকাবিলায়:
বর্তমানে গরম আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরকে পানিশূন্য (Dehydrate) করতে পারে।
বিশেষজ্ঞের শেষ কথা: ঈদের প্রকৃত আনন্দ সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে। সচেতন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনার ঈদকে নিরাপদ ও পরিপূর্ণ করতে।
- লিখেছেন: কায়সার আহমদ চৌধুরী, ফার্মাসিস্ট (বি. ফার্ম), রেজিস্ট্রেশন নং: এ-২৪৪৪৭

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট