নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
একসময় কৃষিজমিতে জৈবসারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হতো রাউজান পৌরসভার শরীফ-পাড়া গ্রামের কৃষক ছগির আহমদকে। এখন সেই ছগির আহমদ নিজেই অন্য কৃষকদের জৈবসার সরবরাহ করছেন, আবার নিজের বাড়ির আঙিনায় তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে। রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ছগির আহমদ আজ সফল একজন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদক। মাসে গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন তিনি। এতে নিজের সংসার এখন অনেকটাই স্বচ্ছল, আর এলাকার অন্য কৃষকেরাও উপকৃত হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘অনাবাদি, পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন (ইফনাপ-১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস তার জন্য কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী স্থাপন করে দেয়। প্রকল্প থেকে রাউজানে ভার্মি কম্পোস্ট তিনি পেয়েছেন ভার্মি কম্পোস্ট পিট, ১০টি রিং, ৪টি হাব ও একটি মেকানিক্যাল সেপারেশন মেশিন। এরপর থেকেই শরীফপাড়ার বাড়ির পাশে পতিত জমিতে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৩৫০ কেজি কম্পোস্ট তৈরি করছেন। বছরে সাড়ে তিন টন সার বিক্রি করে পাচ্ছেন ভালো লাভ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শরীফপাড়া আইপিএম কৃষক গ্রুপের আরও ৪০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ছগির আহমদ বলেন, ‘আগে রফসলের জন্য জৈব সার কিনতে অনেক খরচ হতো। এখন নিজেই সার তৈরি করি, নিজের ক্ষেতেও ব্যবহার করি, আবার অন্য কৃষকদের কাছেও কেজি ১৫ টাকায় বিক্রি করি। এতে সবাই উপকৃত হচ্ছে। ‘তিনি আরও জানান, ভার্মি কম্পোস্টের জন্য প্রয়োজনীয় গোবরের জোগান দিতে তিনি গরু পালন শুরু করেছেন। এতে সারের পাশাপাশি দুধ বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির বলেন, ‘আমরা কৃষকদের জৈবসার ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছি। ছগির আহমদ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার উদাহরণ দেখে অনেকে এখন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ তিনি জানান, রাউজানে ভার্মি কম্পোস্টের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই আগ্রহী কৃষকদের আরও সম্পৃক্ত করতে কৃষি বিভাগ ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট