ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্বপ্নগুলো মরে যাক ফেসবুকে মৃত্যুর আকুতি জানিয়েই চিরতরে চলে গেলেন মাহাদি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 29, 2026 ইং
স্বপ্নগুলো মরে যাক ফেসবুকে মৃত্যুর আকুতি জানিয়েই চিরতরে চলে গেলেন মাহাদি ছবির ক্যাপশন: সৌদি আরব প্রবাসী যুবক মাহাদি রাজ শুভ
ad728
নিউজ ডেস্ক 

বড় একটি এক্সিডেন্ট হোক, ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হোক দেহ, স্বপ্নগুলো মরে যাক, মুছে যাক সব অপূর্ণতা। ফেসবুকের দেওয়ালে বুকফাটা মানসিক কষ্ট থেকে ঠিক এই শব্দগুলোই লিখেছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী যুবক মাহাদি রাজ শুভ। কিন্তু কে জানত, মনের অজান্তে লিখে যাওয়া এই আকুতিই এভাবে নির্মম সত্য হয়ে ধরা দেবে। এক বুক অপূর্ণতা আর স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, প্রবাসের মাটিতেই চিরতরে চোখ বুজলেন লক্ষ্মীপুরের এই যুবক।

​সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি যুবক মাহাদি রাজ শুভ। তিনি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

​সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন মাহাদি। বৃহস্পতিবার ভোরে জীবিকার তাগিদে নিজের ফুড ডেলিভারির কাজে বের হন তিনি। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় সহকর্মীরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনটি বন্ধ থাকায় তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

​অবশেষে রাতে সৌদি আরব পুলিশের পক্ষ থেকে আসে সেই স্তব্ধ করে দেওয়া খবর। পুলিশ জানায়, রিয়াদ শহরের তোমামা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন মাহাদি। বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের কিং সৌদি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মাহাদির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার সহকর্মী আরাফাত হোসেন রায়হান।

​মাত্র ৬ মাস আগে দ্বিতীয় দফায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাহাদি। তার বাবা মুহাম্মদ দুলালও সৌদিতেই প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে মাহাদিকে একটি দোকান করে দিয়েছিলেন তার বাবা। ব্যবসাও চলছিল বেশ ভালো। কিন্তু কোনো এক কারণে দোকানটি বিক্রি করে দেন মাহাদি।

​পরবর্তীতে পরিবারের অমতে বিয়ে করলেও একপর্যায়ে পরিবার তা মেনে নেয়। বর্তমানে তার ঘরে ৩ বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান রয়েছে। একদিকে ব্যবসা হাতছাড়া হওয়া, অন্যদিকে পারিবারিক টানাপোড়েন, সব মিলিয়ে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন এই যুবক। আর সেই কষ্ট থেকেই ফেসবুকে লিখেছিলেন নিজের মৃত্যুর আকুতি।

​ছেলের এমন নির্মম মৃত্যুর খবর সৌদিতে থাকা বাবা জানতে পারলেও, বাংলাদেশের বাড়িতে থাকা মাহাদির মা ও বোন এখনো এই চরম সত্যের মুখোমুখি হননি। আকস্মিক এই আঘাতে তারা যেন ভেঙে না পড়েন, সেজন্য বাবা দুলাল এখনই বিষয়টি বাড়িতে জানাতে বারণ করেছেন। তবে প্রিয় সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সৌদিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

​একজন টগবগে যুবকের এমন করুণ বিদায় এবং মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন