ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঝরে পড়াদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 10, 2026 ইং
ঝরে পড়াদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ ছবির ক্যাপশন: ঝরে পড়াদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
সাধারণত যেকোনো কারিগরি বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে কেবল সনদপত্রই তুলে দেওয়া হয়। তবে, চট্টগ্রামে দেখা গেল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও মানবিক এক উদ্যোগ। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি সরাসরি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণী। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিশেষ যৌথ উদ্যোগে এই অনন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম— কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই অনুষ্ঠানেই উৎসবমুখর পরিবেশে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ করতে চাই না, বরং প্রশিক্ষণের বাস্তব ফল দেখতে চাই। একজন তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে শুধু তার নিজের জীবনই নয়, একটি পুরো পরিবার ও সমাজ বদলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়া তরুণদের জন্য যদি সঠিক দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তবে তারাই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে হাটহাজারীর কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৪টি কারিগরি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এই কোর্সে অংশ নেন। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জন শিক্ষার্থীই কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।
প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল— টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।
জেলা প্রশাসনের নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষ হতেই ৪৬ জনের তাৎক্ষণিক চাকরি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে টেইলারিং ট্রেডের ২০ জন, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডের ১৭ জন এবং মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডের ৯ জন তরুণ-তরুণী বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের বাকি প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও বর্তমানে জোর তৎপরতা চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হওয়া। প্রশিক্ষণ শেষে কোনো তরুণ যেন হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধিরা, চাকরিদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের মাঝে সনদপত্র এবং চাকরিপ্রাপ্তদের হাতে নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ