নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর হাসপাতাল থেকে ফিরে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চুয়ালি এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সভা আহ্বানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিন্ডিকেটের এক সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফেরেন উপাচার্য। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান বলেন, উপাচার্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চুয়ালি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন।
তবে ছুটিতে থাকায় রাশিদুল হাসান সভায় যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত নন।
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, উপাচার্য তাকে বার্তা পাঠিয়ে সভার কথা জানিয়েছেন। তবে বার্তা পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে বলে জানান তিনি।
সভা আহ্বানের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর গত ১২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন তারা। পরে দুপুর ১২টার পর ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।
এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে ১১ জন আটকা পড়েন। পরদিন উপাচার্য অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান। তাকে পরীক্ষা করতে সেখানে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্যসহ আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট