ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কোস্টগার্ডের জব্দ সারের অংশ বিক্রির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 5, 2026 ইং
কোস্টগার্ডের জব্দ সারের অংশ বিক্রির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন: কোস্টগার্ডের জব্দ সারের অংশ বিক্রির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারে পাচারের সময় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জব্দ করা ৪৫০ বস্তা ডিএপি সারের একটি অংশ অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, জব্দ তালিকাভুক্ত সারের মধ্যে ৯০ বস্তা কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে সেই সার মিনি ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানা-পুলিশ ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার জব্দ করে। এরপরই বিষয়টি সামনে আসে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা জব্দ আলামতের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে কোস্টগার্ডের জব্দ করা সরকারি আলামত কীভাবে পুলিশি হেফাজত থেকে বাইরে গেল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কোস্টগার্ডের অভিযানের পর সারগুলো একটি কার্গো বোটে সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে গুদামজাত বা হস্তান্তরের আগেই সেখান থেকে ধাপে ধাপে কিছু সার বের করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পতেঙ্গা থানাধীন কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর, ফাঁড়ির দ্বিতীয় কর্মকর্তা এএসআই শম্ভু নাথ এবং আনোয়ারা রাঙ্গাদিয়া ফাঁড়ি ও কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল আলাউদ্দিনের যোগসাজশে জব্দ করা সারের ৯০ বস্তা কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার ব্যবসায়ী মো. মনিরের কাছে বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরো লেনদেনের সমন্বয় করেন কনস্টেবল আলাউদ্দিন।

এরপর মনির একটি মিনি ট্রাকে করে সারগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শফি উল্লাহ অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার জব্দ করেন। পরে মনির ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের আগে রেজাউল করিমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কোস্টগার্ডের জব্দ করা সার গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পাহারার দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং জব্দ তালিকার সঙ্গে বর্তমানে সংরক্ষিত সারের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়েছে কি না। অভিযোগকারী সূত্রগুলোর দাবি, যদি সত্যিই ৯০ বস্তা সার বাইরে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে তা একদিনে সম্ভব নয়; এর পেছনে দায়িত্বে অবহেলা বা সংঘবদ্ধ যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

গত ৩১ জুলাই পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা (২২ হাজার ৫০০ কেজি) ডিএপি সার ও পাচারে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট জব্দ করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ওই সময় ২৩ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়।

জব্দ অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই সারের একটি অংশ বিক্রির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জব্দ আলামত থেকে কোনো অংশ সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকলে তা শুধু আত্মসাতের অভিযোগ নয়, বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার শামিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে জব্দ তালিকা, আলামত সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ডিউটি রোস্টার, কার্গো বোটের পাহারার নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, ট্রাক চলাচলের তথ্য এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর। তিনি বলেন, সারগুলো যেভাবে জব্দ করা হয়েছিল, সেভাবেই আছে। বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন, জব্দ করা সার বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনির ও রেজাউল করিমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস