ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ৬ উপজেলায় সুপেয় পানির হাহাকার: ৫০০ ফুট গভীরেও মিলছে না পানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
চট্টগ্রামের ৬ উপজেলায় সুপেয় পানির হাহাকার: ৫০০ ফুট গভীরেও মিলছে না পানি ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের ৬ উপজেলায় সুপেয় পানির হাহাকার: ৫০০ ফুট গভীরেও মিলছে না পানি
ad728

কামরুল সিফাতউল্লাহ | চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মহানগরীর উপকণ্ঠ ও গ্রামাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে জেলার ছয়টি উপজেলায় গ্রীষ্মের শুরুতেই পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে যেখানে মাত্র ২০ ফুট গভীরে পানির স্তর পাওয়া যেত, এখন ৩৫ থেকে ৪০ ফুট নিচে গিয়েও সাধারণ নলকূপে পানি মিলছে না। এমনকি সংকট মোকাবিলায় ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করেও অনেক এলাকায় পানির নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।

পানির স্তর পতনের কারণ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের মতে, পটিয়া, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ ফুট করে নিচে নামছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলন। শিল্পকারখানাগুলো তাদের বিশাল চাহিদা মেটাতে শক্তিশালী মোটর ব্যবহার করে মাটির গভীর থেকে পানি শুষে নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ২৫ শতাংশ নলকূপ এরই মধ্যে অকেজো হয়ে পড়েছে।

বিপর্যস্ত উপকূলীয় জনপদ সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার প্রাপে সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই অঞ্চলে সুপেয় পানির উৎস প্রায় বিলীন। আনোয়ারার রায়পুর, দক্ষিণ গহিরা ও বন্দর এলাকায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এসব জায়গায় উপরের স্তরের পানিতে লবণাক্ততা বেশি, ফলে গভীর নলকূপই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখন ৪০০-৫০০ ফুট গভীরেও পানি না পাওয়ায় অন্তত ৬০টি গ্রামের মানুষকে কয়েক মাস চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিকল্প উৎসের তাগিদ চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এই সংকট নিয়ে বলেন, "শহরে ও গ্রামে ক্রমাগত পাকা দালান নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের এখন নদী ও সমুদ্রের পানি পরিশোধনের মতো বিকল্প উৎস নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। না হলে অচিরেই এই জনপদ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।"

শিল্পকারখানার উদাসীনতা কয়েকটি শিল্পকারখানার কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাগর বা নদীর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উৎপাদন খরচ কমাতে তারা পরিবেশের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সরকারিভাবে সার্ভিস ওয়াটার সরবরাহ বা বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে এই পানির সংকট অচিরেই মহামারি আকার ধারণ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স