ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জলাবদ্ধতার জন্য শুধু প্রকৃতি নয়, দায়ী আমরাও

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
জলাবদ্ধতার জন্য শুধু প্রকৃতি নয়, দায়ী আমরাও ছবির ক্যাপশন: জলাবদ্ধতার জন্য শুধু প্রকৃতি নয়, দায়ী আমরাও
ad728
জে. এম. জাবেদ
গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক সংগঠক
বর্ষা এলেই দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন আমরা অনেকেই এর জন্য শুধু অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই জলাবদ্ধতার বড় একটি কারণ আমরা নিজেরাই।

আমরা মানুষ, কিন্তু অনেক সময় মনুষ্যত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হই। ক্ষমতা, লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিই। সরকারি সড়ক, খাল, নালা, নর্দমা ও নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তুলি বাড়িঘর, মার্কেট কিংবা শিল্পকারখানা। ফলে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

শুধু দখলদাররাই নন, নীরব দর্শক হিসেবেও আমাদের দায় রয়েছে। অনেকেই সবকিছু দেখেও প্রতিবাদ করেন না। কেউ প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে চান না, আবার কেউ ব্যক্তিস্বার্থ বা সামান্য সুবিধার বিনিময়ে নিজের বিবেককে বিসর্জন দেন। এই নীরবতাই অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং জনদুর্ভোগকে স্থায়ী রূপ দেয়।

এর ভয়াবহ পরিণতি আমরা প্রতি বর্ষায় প্রত্যক্ষ করি। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা চরম অসহায় হয়ে যান। দুর্যোগ শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে মানুষের দীর্ঘ সময় লেগে যায়, আর ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয় বছরের পর বছর।

প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মে বাধা সৃষ্টি করলে প্রকৃতি একসময় তার কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই ব্যক্তিস্বার্থে খাল, নালা, নর্দমা কিংবা নদী দখল করার প্রবণতা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্বও।

একই সঙ্গে প্রশাসনের উচিত অবৈধ দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।যাতে তারা পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।

পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে দেশের তরুণ ও নবীন প্রজন্ম। তাদের সচেতনতা, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় তারা যদি আপসহীন অবস্থান নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য এবং জলাবদ্ধতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মনে রাখতে হবে, জলাবদ্ধতা শুধু একটি প্রাকৃতিক সমস্যা নয়।এটি আমাদের সিদ্ধান্ত, দায়িত্ববোধ এবং নাগরিক আচরণেরও প্রতিফলন। তাই প্রকৃতিকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করাই হবে টেকসই সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন