নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সিল ও সাক্ষর জাল করে ভবনের নকশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে কামরুদৌজা নামের এক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে চলছে ভবন নকশা তৈরির বাণিজ্য।
সীতাকুণ্ড পৌরসভার কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভবনের নকশা অনুমোদনের ১০ টি অভিযোগ রয়েছে। তারমধ্যে ৮টি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের, অন্য দুটি মিরসরাই পৌর সদরের। অভিযোগকারীরা হলো- প্রকৌশলী মো. জাহিদ ভুঁইয়া ও মো. আকরামুল হক।
স্থানীয় প্রকৌশলীদের দাবি একটি ভবনের নকশার ফাইল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কামরুদৌজা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নকশার ফাইল অনুমোদন করে নেন।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৯৯৬ সালের গেজেট অনুযায়ী একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সর্বোচ্চ চারতলা পর্যন্ত নকশা ও ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। কিন্তু তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে পাঁচ থেকে ছয় তলা দালানের নকশা ও ডিজাইন তৈরি করেন। যা আইনগত অপরাধ। কিন্তু চার তলার ঊর্ধ্বে গেলে যাবতীয় নকশার জন্য একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার অথবা বিএসসি স্থপতি লাগে। কামরুদৌজা মূলত স্থপতি ও ডিজাইনারদের পারিশ্রমিক না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে নিজেই সিল বানিয়ে স্বাক্ষর করতেন।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কামরুদৌজা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে দালানের ডিজাইন ও নকশা তৈরির কাজ করছেন। সীতাকুণ্ড পৌর সদরে স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং-এর স্বত্বাধিকারী তিনি।
স্থানীয়রা আরও বলেন, সে যদি দালানের নকশা ও ডিজাইনে জালিয়াতি করে তাহলে সেই দালানগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও ভবন মালিকদেরকে নকশা অনুমোদন নেওয়ার আগেই দালানের কাজ শুরু করতে বলেন কামরুদৌজা।
আওরঙ্গজেব নামের এক ভবন মালিক বলেন, ‘আমার দালানের ডিজাইন ও নকশার জন্য কামরুদৌজার শরণাপন্ন হই। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ফাইল অনুমোদন করার আগেই সে আমাকে দালানের কাজ শুরু করতে বলেন। পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আমি কাজ বন্ধ রাখি।
এ বিষয়ে স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং ফার্মের স্বত্বাধিকারী কামরুদৌজা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সেগুলো সব মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তার কারণে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করছে।’
স্থানীয় আর্কিটেক মো. আনোয়ার হোসেন সোহেল বলেন, ‘পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবীসহ বেশ কয়েকজনের যোগসাজশে জাল নকশা অনুমোদন বাণিজ্য চলে।’
প্রকৌশলী মো. জাহিদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার এইইবি মেম্বারশিপ নম্বর ৪০৫২৫। আমি দীর্ঘদিন কামরুদৌজার সাথে দালানের নকশা ও ডিজাইনের কাজ করেছি। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তার সঙ্গে কাজ করছি না। তারপরও সে আমার এইইবি মেম্বারশিপ নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে মিরসরাই দুটি ফাইলের নকশা অনুমোদনের জন্য জমা দেন। পরে সীতাকুণ্ড পৌরসভা কার্যালয়ে একটি অনুলিপি দিয়েছি। পরবর্তীতে জানতে পারি আমার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে প্রায় আট-নয়টি ফাইল জমা দেন।
এই নকশার ফাইলগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মূলত স্থপতি ও ডিজাইনারদের পারিশ্রমিক না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে নিজেই সিল বানিয়ে স্বাক্ষর করতেন।
সিল ও স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবী বলেন, ‘স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট এর স্বত্বাধিকারী কামরুদৌজার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য। পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট