দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
রঙিন ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক স্বপ্নের বাগান গড়ে উঠেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং সওদাগর পাড়ায়। শখের বসে শুরু করা ফুল চাষ আজ সফল বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপ দিয়েছেন এক শিক্ষক দম্পতি।
হাজাধন মনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তার ও বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মাসুদুল আলমের হাতে গড়া এই ফুল বাগান এখন দীঘিনালার একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে টবে দেশি-বিদেশি ফুলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তাদের এই উদ্যোগের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শখটি পরিণত হয় সম্ভাবনাময় একটি ফুল চাষ প্রকল্পে।
বর্তমানে বাড়ির আঙিনা জুড়ে টবে চাষ হচ্ছে প্রায় ১৫০ প্রকার দেশি ও বিদেশি ফুল। বাগানে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি টবে সাজানো সাদা, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি ও লাল রঙের চন্দ্রমল্লিকা। বিশেষ করে পূর্ণ বিকশিত সাদা চন্দ্রমল্লিকার ঝাঁক যেন স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস। উদ্যোক্তারা জানান, তাদের বাগানে রয়েছে চন্দ্রমল্লিকার প্রায় ৭০ ধরনের ভ্যারাইটি, যা বাগানের প্রধান আকর্ষণ।
এছাড়াও থাইল্যান্ডের উন্নত জাতের গোলাপসহ লাল, সাদা ও বিভিন্ন রঙের প্রায় ৩০ প্রকার গোলাপ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের পিটুনিয়া ঝুলছে টবে টবে। আরও আছে পোত্তলিকা, গাঁদা, ডালিয়া, গ্যাজেনিয়া, সেলোসিয়া সহ নানান জাতের ফুল, যা বাগানটিকে করেছে বৈচিত্র্যময় ও মনোমুগ্ধকর।
নাসরিন ও মাসুদুল আলম দম্পতি শুরুতে শুধুই শখের বসে ফুল ও চারা সংগ্রহ করলেও বর্তমানে এই বাগানটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ফুল বাগানে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন এবং পছন্দ অনুযায়ী ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা সদর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাধন বিকাশ বলেন, দীঘিনালায় এত সুন্দর একটি ফুলের বাগান রয়েছে, এখানে না এলে জানতেই পারতাম না। চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, গাঁদা ও পোত্তলিকাসহ নানা রকম ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছি।”
আরেক দর্শনার্থী বলেন, “মন ভালো করে দেওয়ার মতো একটি বাগান দেখলাম। ফুলগুলোর সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাড়ি ফেরার সময় কিছু ফুল কিনে নেওয়ার ইচ্ছে আছে।”
গণমাধ্যমকর্মী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মাসুদুল আলম ভাই এর ফেইসবুকে দেখে দেখতে আসলাম, এখানে এসে ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলাম, আমার জীবন এই প্রথম এতগুলো ফুল একসাথে দেখেছি।
ফুল বাগানের উদ্যোক্তারা বলেন, “শখ থেকে শুরু হলেও এখন এই বাগান আমাদের নেশা ও পেশা হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা ও বিদেশ থেকে উপকরণ এনে বাগানটি সাজিয়েছি। এটি এখন আমাদের মানসিক প্রশান্তি ও সুখের জায়গা। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসে এবং ফুল কিনে নিয়ে যায়” এটা অন্য রকম ভালো লাগার জায়গা।
তারা আরও জানান, বাগানের ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে মৌচাক তৈরি হয়েছে। সেই মৌচাকের মধু পারিবারিক চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়ও হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফুলের জাত আরও বাড়ানো, নার্সারি সম্প্রসারণ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
স্থানীয়দের মতে, এই সফল ফুল বাগান এলাকার মানুষের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলপ্রেমী ও ক্রেতাদের ভিড় জমছে এখানে। ধীরে ধীরে ছোট মেরুং সওদাগর পাড়ার এই ফুলের বাগান দীঘিনালার একটি পরিচিত ও আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট