আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিএনজি চালক সাজ্জাদ (২২) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি লিয়াকত আলী (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানাধীন বাংলাদেশ কনভেনশন হলের সামনে থেকে লিয়াকত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের রাতে সাজ্জাদের হাত-পা বাঁধার জন্য গামছা কেনেন লিয়াকত আলী। পরে দুটি ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করতে চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংসতার প্রমাণও তদন্তে পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে লিয়াকত আলীকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় এর আগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পলাতক আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত সাজ্জাদ আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। চার দিন পর বরুমছড়া ইউনিয়নের একটি ফিশারিজ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট