ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আগুনে পুড়ে ছাই অংগ্যজেং মারমার স্বপ্নের ঘর নিঃস্ব কিডনি রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 26, 2026 ইং
আগুনে পুড়ে ছাই অংগ্যজেং মারমার স্বপ্নের ঘর নিঃস্ব কিডনি রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা ছবির ক্যাপশন: আগুনে পুড়ে ছাই অংগ্যজেং মারমার স্বপ্নের ঘর নিঃস্ব কিডনি রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা
ad728
প্রবীর সুমন//খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি 

কিডনি রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই, স্ত্রী ও ছোট্ট শিশুর মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম এই নিয়েই প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন অংগ্যজেং মারমা। দিনমজুরির কাজই ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। অমানুষিক পরিশ্রম করে যে সামান্য উপার্জন তা দিয়েই কোনোভাবে চলছিল চিকিৎসা, খাবার আর পরিবারে ভরণপোষণ।

চারপাশ জুড়ে অভাব থাকলেও নিজের হাতে গড়ে তোলা একটি ছোট্ট ঘরই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সেই ঘরেই ছিল পরিবারের হাসি-কান্না, দুঃখ–কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার শক্তি আর আগামী দিনের স্বপ্ন।

কিন্তু ভাগ্য যেন নির্মমভাবেই সবকিছু কেড়ে নিল।
(২৫ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে পানছড়ি উপজেলার যৌথখামার মারমা পাড়ায় হঠাৎ আগুন লাগে অংগ্যজেং মারমার বসতঘরে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যায় সাজানো সংসার। ঘরের সঙ্গে পুড়ে যায় জামাকাপড়, আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস। পড়নের কাপড় ছাড়া কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

এই আগুন শুধু একটি ঘর নয় পুড়িয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের নিরাপত্তা, নিশ্চিন্ত রাতের ঘুম আর বেঁচে থাকার শেষ ভরসাটুকু।

ঘর হারিয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা আজ বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে অংগ্যজেং মারমা দাঁড়িয়ে আছেন চরম অনিশ্চয়তার সামনে। চিকিৎসার ব্যয়, মাথা গোঁজার ঠাঁই আর সন্তান আর পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা সব মিলিয়ে তার জীবন এখন গভীর সংকটে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হলেও অংগ্যজেং মারমা ছিলেন পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাশীল। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমেই পরিবার চালানোর চেষ্টা করতেন তিনি। কিন্তু এই অগ্নিকাণ্ডে তার জীবনের সব অর্জন এক নিমেষে শেষ হয়ে গেছে।

অংগ্যজেং মারমা মারমা বলেন, আমি দিনমজুর মিস্ত্রী কাজ করি এদিকে বাবা খুবই অসুস্থ হঠাৎ আগুন লেগে আমার সর্বস্ব পুড়ে গেছে এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। বাবা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে চিকিৎসা করতে পারছি না। 

দু’চোখ ভরা কান্না আর বুকভরা অসহায়ত্ব নিয়ে অংগ্যজেং মারমা তাকিয়ে আছেন শূন্যতার দিকে মানবিক সহায়তার আশায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু