নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
আমি পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা। আপনার মামলায় আপনার পক্ষেই রিপোর্ট দেওয়া হবে।’ ফোনের ওপাশ থেকে এমন কথা শুনে অনেক বাদীই বিশ্বাস করতেন। এরপর গাড়িভাড়া কিংবা তদন্তের খরচের কথা বলে চাওয়া হতো টাকা। আর সেই টাকা বিকাশ বা নগদে পাঠানোর পরই প্রতারকদের ফোন বন্ধ।
এভাবেই পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রটির মূলহোতা মো. মোজাম্মেল হক কবিরকে (৫০) মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রামের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন।
পিবিআই জানায়, চক্রটির সদস্যরা আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। শুধু নম্বর সংগ্রহ করেই থেমে থাকত না তারা সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগের বিবরণও জেনে নিত।
এরপর বাদীকে ফোন করে নিজেদের পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। মামলার বিভিন্ন তথ্য ফোনে তুলে ধরে বাদীর বিশ্বাস অর্জন করত। পরে মামলায় পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়িভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
ভুক্তভোগীরা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরই প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দিতো।
দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণার বিষয়টি পিবিআইয়ের প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে প্রতারকরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের জটিলতায় পড়তে হয়।
সর্বশেষ পিবিআই চট্টগ্রামের এসআই মো. আবু সুফিয়ানের তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে একই কায়দায় তদন্তের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এসআই আবু সুফিয়ান নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মোজাম্মেল হক কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন তিনি।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার শিকার অন্যান্য মামলার বাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অন্যের পরিচয় ধারণ করে প্রতারণা, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এবং বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট