ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষের মামলায় শিবিরকর্মীর নাম, ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 3, 2026 ইং
বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষের মামলায় শিবিরকর্মীর নাম, ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির ছবির ক্যাপশন: বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষের মামলায় শিবিরকর্মীর নাম, ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর নাম আসায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে জামায়াত-শিবির।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষ কর্মসূচি আহ্বান করে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার আট দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় মো. শরিফুল আলম সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর নামও রয়েছে। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া এলাকার মো. আলীর ছেলে এবং চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী জানান, সায়েম ছাত্রশিবিরের একজন কর্মী। মামলায় তাঁর নাম থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীকে জানান। পরে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী সীতাকুণ্ডের ওসিকে ফোন করেন। ওসি ভুলক্রমে নাম এসে থাকলে বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সায়েমের পরিবারের দাবি, বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের খবর শুনে সেদিন সায়েম বাড়ি থেকেই বের হননি।

ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নিজেদের দায় আড়াল করতে শিবিরের কর্মীকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সায়েমকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেন। একই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী।

সীতাকুণ্ড থানা (উত্তর) অফিস সম্পাদক তানভীর উদ্দিন জানান, সায়েম তাঁর একই এলাকার বাসিন্দা। মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সায়েম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “হয়তো ভুলবশত তার নাম মামলায় এসেছে। যদি তদন্তে দেখা যায়, তিনি ঘটনায় জড়িত নন, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় তার নাম বাদ দেওয়া হবে।”

এদিকে গত বুধবার বিকেল ৫টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. তাহের।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও পুলিশি নির্যাতনে জামায়াতে ইসলামী-ছাত্রশিবিরের ১১ কর্মী নিহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

তাহের অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা ও ঘুষ লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি এসব অভিযোগের তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, মামলাগুলো পুনঃতদন্ত এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানান জামায়াতের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আজাদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী, মিডিয়া সম্পাদক আবুল হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার কমিশনার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল